ইউজেস ছদ্মনাম, ফাইন্ড আসল নাম

মাহি, গাউসুল আজমের স্ত্রী। রীতিমতো গাউসুল আজম তার স্ত্রীর কাছে দুর্বল। না না, ওই দুর্বল না। গাউসুল আজমের একটা দুর্বল জায়গা আছে। প্রতিনিয়ত সেই দুর্বল জায়গায় মাহি আঘাত করে।

আগে এরকম ছিল না। প্রতিবেশী ভাবিদের সুপরামর্শে মাহি এরকম করে আর কি। যদিও প্রতিবেশী ভাবিরা মাহিকে ইউজ করছে আর ফালপেরে হাসছে সেটা মাহি এখনও বুঝতে পারছে না। ইদানীং মাহি এবং পাড়ার ভাবিদের সখ্যতাও বেশ গড়ে উঠেছে।

আসা-যাওয়া, গল্প, আড্ডাও বেশ মেতে উঠেছে। সঙ্গে কয়েকটা বাংলা মদের বোতল আর দু’একজন পুরুষ নর্তকী থাকলে আড্ডাটাও বেশ জমকালো হইতো। যদিও পাড়ার ভাবিরা তাদের ব্যবহার করছে, সময়ে-অসময়ে মাহিদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়; তবু মাহি এখন তাদেরই পক্ষে।

আসলেই মাহি আগে এরকমটা ছিল না। ওই যে বললাম, ওনার হাসবেন্ড এর দুর্বল পয়েন্টে তিনি আঘাত হানে। আর এটাও সে করতো না, যা করে প্রতিবেশী ভাবিদের সুপরামর্শের জন্য।

সুপরামর্শগুলো একরকমটা হতে পারে- এখন তো তুই রাজা, তোকে আর কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না, কিছু কইতেও পারবে না। আরেকজন তো বাহিরে থাকে, বচ্ছরে তিন/চারবার বাড়িতে এসে মাজিস্ট্রেটের মত ঘুরে যায়। আর তোর হাসবেন্ডর ওই দুর্বল পয়েন্টটা কাজে লাগিয়েই তুই এভাবে চলবি।

যেই বলা সেই কাজ। রীতিমতো বাড়িতে ওভাবে চলছে। শাশুড়ী’র সঙ্গে আর বনিবনা নেই। শাশুড়ী মনে করেন নিজের বেটি, মাহি মনে করেন জল্লাদ শাশুড়ী। হিংসাবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আস্তে আস্তে এটার সীমাবদ্ধ অতিক্রম হয়ে যায়। গাউসুল আজমও এখন বৌ পাগল হইয়া গেছে। কারণ ওই যে, মাঝ রাতে স্ত্রী দুর্বল পয়েন্টে টুক কইরা আঘাত হানে।

ঠিক আছে, ওই দুর্বল পয়েন্টর জন্য আপনি কাবু হইয়াছেন; সবাই তা মাইনা নিছে। কিন্তু সেজন্য যে গর্ভধারিণী ‘মা’কে এভাবে কটু কথা বলবেন, বেশ্যাদের তালিকায় রাখবেন এটা কখনও কেউ আশা করেনি। যদিও এগুলা গাউসুল আজমের কঠিন দোষ না, বাড়ির ছোটন মনে করেন, এগুলা বেশির ভাগই বাড়ির কর্তাজীর সুফল।

এই হলো বুদ্ধিমানদের কাজ। বেশি’ই বোঝে বেশি’ই বাঁশের লাড়া খায়। আরে পাগলা, বউ ভালোবাসিস ভালো কথা। এজন্য বউয়ের আঁচলের তলায় থাকতে হবে এমটাও কোন ধর্মে লেখা নেই। আজকে তোর প্রতিবেশীই আপন হইয়া গেল, সুপরামর্শ ধারণকারী হইয়া গেল। যেদিন আবারও ওই প্রতিবেশী ভাবিরা তোর আর তোর স্ত্রীর পুট*কি মাইরা ছাঁদে উঠাইয়া দিবো সেদিন বুঝতে পারবি, কেবল সময় গড়ালেই সম্ভব।

পাগলা, বউ গেলে বউ পাওন যায় রে; ‘মাও’ গেলে ‘মাও’ পাওন যায় না!!!
―রাহিনুল এইচ. ইমরান (ইউজেস ছদ্মনাম, ফাইন্ড আসল নাম)

খয়েরী রঙের বোন

বোন! মধুমাখা এক নাম, তাই না?
যদি নিজের একটা বোন থাকে তাহলে তো কোন কথায় নেই। রাগ, অভিমান, অনুযোগ, অনুরাগ, অনুরোধ, আবদার, দুষ্টুমি, হাসি-কান্না সব’ই খাটে; সব’ই চলে।

বোন যেন গ্রামারের একটা চ্যাপ্টার; Sister that means- assertive sentence, interrogative sentence, imperative sentence, optative sentence and exclamatory sentence.

সবথেকে বড় ব্যাপার, বোন ইচ্ছে শক্তির শিকড় গড়ায়। বোনের কাছে মায়ের পরপরই বোধয় চোখের জল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়। ভায়ের ব্যাথা, পরমসুখ বোন অনেক কাছে থেকে দেখতে পায়।

ভাবছেন এত কিছু কিভাবে জানি? ধারণা করতেই পারেন, আপনার বোনের স্নেহ কেবল আপনার উপরেই বোধয়? জী না ভাই। আমার রক্ত খয়েরী। খয়েরী রঙের একটা বোন থাকলেই পারতো। কিন্তু নেই। প্রকৃতি দেননি।

আমার এসব ধারণা, ভাবনা চারপাশে ভাই-বোনের দেখে দেখে। আপনার থেকে দেখে দেখে। গভীরে গেলে, প্রকৃতির থেকে শিখে। শুনে অবাক হবেন, প্রকৃতি মাঝে মধ্যে ভাই বলেও সম্বোধন করে আমায়।

আমার বিষন্ন ভগ্নহৃদয় দেখে আমাকে বোন ডাকতে কয়। আমি বলি, আমি তো তোমার সন্তান। তখন প্রকৃতি একটা গান শোনায়- “তুমি অন্ধ হয়ে যাও, আমায় গন্ধে চিনে নাও, আমি কষ্টের কাছে আনাচে-কানাচেতে ঘুরবো অছিলায়; তুমি অন্ধ হয়ে যাও, আমায় গন্ধে চিনে নাও”।

প্রকৃতি আবার সায়ানের এই গান’ও কয়- “ঘরে’ই কত আপন মানুষ শত্রু সেজে রয়, কেউ কি আমায় বলতে পারো আপন কারে কয়? যারে’ই যখন এই ভুবনে আপন মনে হয়, সময় মতন সে’ই দিয়ে যায় অন্য পরিচয়”।

এই গানে আমার কেন জানি একটা বোনের অভাব খুব বেশি অনুভব হয়, এককালে’র আপন ভেবে বসা মানুষগুলাকে চক্ষুগৃহে দৃশ্যমান হয়। আবার এই গান এও মনে করিয়ে দেয়- একটা নিচু পরিবার, একটা নোংরা সমাজকে। প্রায় মাঝরাতে এই গানটা শুনে শুনে ঘুমোতে যাই, আর কিভাবে যেন নিঃশব্দভাবে একবার ডুকরে উঠি। (গানঃ ফিরতে ঘরে ভয় -সায়ান) কাছের মানুষগুলাকে মনে করতে গানটা শোনার ট্রাই করতে পারেন।

বোনের স্নেহ, ভালোবাসা থেকে ছোটবেলা হতেই বার বার ভেঙে পড়েছি! প্রতিনিয়তি এ আঘাত আমাকে কুরে কুরে খায়। একটা বোন থাকাও প্রকৃতির গোল্ড মেডেল স্বরূপ গিফট। প্রতিটা বোন’ই আপন ভায়ের কাছে সুন্দর মনের হয়, লর্ড গিফট্টেড হয়।

কেবল যে বোন’ই তা নয়। আমার খয়েরী রক্তের খালাম্মা, ফুফু আম্মা ওনারাও ভাগ্যে জোটেনি। ওনাদের আদর যে কেমন হয় ওগুলা খেয়াল করিনি। তবে অনুভব হয়, বোধকরি মায়ের পরপরই সুন্দর হবে; শ্রেষ্ঠ হবে হয়তো।

পার্থিব এই জীবনে আমার বার বার মনে হয়েছে, আমার আপন বলতে কেবল আমি নিজেই এবং এই হালকা খয়েরী রক্তের আমি, যে গাঢ় খয়েরী রক্তের মাতৃগর্ভে ছিলাম; মা! আমার মা!!!
―রাহিনুল এইচ. ইমরান (খয়েরী রঙের বোন)

উৎসর্গঃ
মা’কে।
জগতের সব মা’কে।
জগতের সব বোন’কে।

মানুষ ভিএস জারজ

ওরা বলে, আমি জারজ। এই সমাজ আমাকে জারজ বানিয়েছে। আমি কী জানছিলাম জাউরো কি? চেয়েছিলাম কখনও আমাকে জাউরো বলে সম্বোধন করেন? এই নামটাও না এখন একটা শ্রেণী, একটা ধর্মে পড়ে যায়। যেমন- মেথর, সাঁওতাল, ডোম এরকম টাইপের আর কি।
―রাহিনুল এইচ. ইমরান (মানুষ ভিএস জারজ)

প্রিয় শিক্ষক

“আমি জান্নাতে তোমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে থাকবো, সৃষ্টিকর্তা যেন তাই করেন।”

স্যারের ক্লাসে পড়ানোর স্টাইল, ছাত্র-শিক্ষকের ইন্টারেকশন এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা আমার কাছে অসাধারণ মনে হতো সবসময়ই। কোচিং ছাড়ার পরেও আমার সঙ্গে স্যারের যোগাযোগ ছিল নিরন্তর, প্রতিনিয়ত।

একজন শিক্ষক যে কীভাবে একেবারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, সেরকমই স্যার ছিল। আমার জীবনে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সমসাময়িক সাহিত্য, রাজনীতি, মিউজিক, সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আলাপ হতো বেশ।

শহিদুল ইসলাম সুজন স্যার, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ কালের পূর্বমুহূর্তে বুকের বাঁপাশে ব্যাথা অনুভব করেছিলেন; শুনছিলাম অনেক কাছের বন্ধু, শাকিলের থেকে। সেসময় শাকিল স্যারের ক্লাসেই ছিল এবং ওদের সবার সঙ্গে এ ব্যাপারে নাকি আলাপচারিতাও হচ্ছিল স্যারের।

তখন আমাদের বন্ধু শাকিল বলেও দিয়েছিল যে, স্যার ডাবের স্বাধ গ্রহণ করুন। এতে করে ব্যাথা লাঘব হবে। তার কিছুক্ষণ বাদেই স্যারকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা’র আশ্রয় নিতে হয়। তিনি একাই বাইক ড্রাইভ করে সেখানে যান।

অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়৷ তবু শেষ রক্ষা হলো না আমাদের কাছের মানুষ, আপন মানুষ, প্রিয় স্যার’র! সৃষ্টিকর্তা তার কাছে উঠাইয়া নিলেন! স্যার নাকি প্রাইভেট চলাকালীন ব্যাথা অনুভবের সময় এও বলেছিলেন,

“আমি জান্নাতে তোমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে থাকবো, সৃষ্টিকর্তা যেন তাই করেন।” হ্যাঁ, যেন এরকম’ই হয় স্যার! আমার সঙ্গে প্রায় নিয়মিত’ই কথা হতো স্যারের। স্যার যে এত অদ্ভুত সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীত, ৯০ দশকের গান গাইতেন- এটা জানা ছিল না।

কেবল গানেই নয়- কবিতা, উপন্যাস, এফএম রেডিও এবং টিভি’র এ্যাডস অবিকল হৃদয়ে লালন করে পাঠ/মঞ্চায়ন করতেন। শেষ দিনগুলো এভাবেই আপন করে নিয়ে স্বল্প সময়ে তড়িঘড়ি করে ওপারে পাড়ি জমালেন! সত্যিই হুইটম্যান, মৃত্যুর চেয়ে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না!

ওনার প্রতিষ্ঠানে, প্রাইভেট প্রোগ্রামে আমার সংগীত, মঞ্চনাটক পরিবেশ করার কথাও ছিল। কোন কিছুই আর হলো না, হবে না আর কোনদিনও। ওনার এভাবে চলে যাওয়ায় মেনে নেওয়া কঠিন। ওনার স্পর্শকাতর মাটি, সেই মাটিতে বসে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি স্বজন হারানোর বেদনা!!!

আজ ২৬ই ডিসেম্বর, স্যারের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। আজ উনি নেই তবে ওনার কথা, কাজ, শিক্ষা সবি বেঁচে আছে আমার অনুভূতিতে, হাজারো ছাত্রছাত্রীর হৃদয়ে। আমি এখনও স্যারের আদর্শকে হৃদয়ে লালন করি!

প্রিয় শিক্ষক, সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সুজন’র আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

পোস্টের সাথে প্রাণের শিক্ষকের নিজ কণ্ঠে বলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান’র ৭ই মার্চ ভাষনের একটি অংশ যোগ করে স্মৃতিচারণ করলুম।
―রাহিনুল এইচ. ইমরান

উৎসর্গঃ
মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সুজন
প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঝাড়বিশলা হায়াত-উল উলুম আলিম মাদ্রাসা, পীরগঞ্জ।

প্রাপ্তি

যদি তোমার ভাগ্যে কিছু থেকে থাকে,
তবে সেটা যেভাবেই হোক তোমার কাছে পৌঁছাবে।
―রাহিনুল এইচ. ইমরান

জীবনের গতি

প্রত্যেকের জীবনে,
“দুঃখ টা আগুনের মত, অধ্যবসায় হচ্ছে কয়লা; আর সফলতা তার স্বর্ণ স্বরূপ”।
―রাহিনুল এইচ. ইমরান

সম্মান

আমরা কেউই এটা মানতে আগ্রহী না যে-
আমাদের উচিত জলের প্রত্যেকটা ফোঁটাকে সম্মান করা।
সেটা হতে পারে কারও চোখের বা উপরিভাগ আকাশের।
সেটা আকাশ থেকে ঝরলে শুভকামনা আর চোখ থেকে
নামলে অনিষ্ট কামনা!
―রাহিনুল এইচ. ইমরান

Love VS Relation

Relationship is the name of a relationship and love is the union of two minds, where dreams are nurtured. So relationship and profit can never be one. ―Rahinul H. Imran

ক্লান্তি

সপ্ন যত কষ্টেরই হোক,
চোখ খুললেই সব কষ্ট শেষ হয়ে যায়!
আমার জীবনেও যদি এমন হত,
তাহলে খুব ভাল হত।
-রাহিনুল এইচ. ইমরান

থিংকিং এবাউট

সমাজে এখনও কিছু মানুষ দৃশ্যমান-
এরা মানুষ না, এরা শয়তানও না
এরা ধার্মিক
―রাহিনুল এইচ. ইমরান