প্রিয় শিক্ষক

“আমি জান্নাতে তোমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে থাকবো, সৃষ্টিকর্তা যেন তাই করেন।”

স্যারের ক্লাসে পড়ানোর স্টাইল, ছাত্র-শিক্ষকের ইন্টারেকশন এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা আমার কাছে অসাধারণ মনে হতো সবসময়ই। কোচিং ছাড়ার পরেও আমার সঙ্গে স্যারের যোগাযোগ ছিল নিরন্তর, প্রতিনিয়ত।

একজন শিক্ষক যে কীভাবে একেবারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, সেরকমই স্যার ছিল। আমার জীবনে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সমসাময়িক সাহিত্য, রাজনীতি, মিউজিক, সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আলাপ হতো বেশ।

শহিদুল ইসলাম সুজন স্যার, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ কালের পূর্বমুহূর্তে বুকের বাঁপাশে ব্যাথা অনুভব করেছিলেন; শুনছিলাম অনেক কাছের বন্ধু, শাকিলের থেকে। সেসময় শাকিল স্যারের ক্লাসেই ছিল এবং ওদের সবার সঙ্গে এ ব্যাপারে নাকি আলাপচারিতাও হচ্ছিল স্যারের।

তখন আমাদের বন্ধু শাকিল বলেও দিয়েছিল যে, স্যার ডাবের স্বাধ গ্রহণ করুন। এতে করে ব্যাথা লাঘব হবে। তার কিছুক্ষণ বাদেই স্যারকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা’র আশ্রয় নিতে হয়। তিনি একাই বাইক ড্রাইভ করে সেখানে যান।

অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়৷ তবু শেষ রক্ষা হলো না আমাদের কাছের মানুষ, আপন মানুষ, প্রিয় স্যার’র! সৃষ্টিকর্তা তার কাছে উঠাইয়া নিলেন! স্যার নাকি প্রাইভেট চলাকালীন ব্যাথা অনুভবের সময় এও বলেছিলেন,

“আমি জান্নাতে তোমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে থাকবো, সৃষ্টিকর্তা যেন তাই করেন।” হ্যাঁ, যেন এরকম’ই হয় স্যার! আমার সঙ্গে প্রায় নিয়মিত’ই কথা হতো স্যারের। স্যার যে এত অদ্ভুত সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীত, ৯০ দশকের গান গাইতেন- এটা জানা ছিল না।

কেবল গানেই নয়- কবিতা, উপন্যাস, এফএম রেডিও এবং টিভি’র এ্যাডস অবিকল হৃদয়ে লালন করে পাঠ/মঞ্চায়ন করতেন। শেষ দিনগুলো এভাবেই আপন করে নিয়ে স্বল্প সময়ে তড়িঘড়ি করে ওপারে পাড়ি জমালেন! সত্যিই হুইটম্যান, মৃত্যুর চেয়ে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না!

ওনার প্রতিষ্ঠানে, প্রাইভেট প্রোগ্রামে আমার সংগীত, মঞ্চনাটক পরিবেশ করার কথাও ছিল। কোন কিছুই আর হলো না, হবে না আর কোনদিনও। ওনার এভাবে চলে যাওয়ায় মেনে নেওয়া কঠিন। ওনার স্পর্শকাতর মাটি, সেই মাটিতে বসে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি স্বজন হারানোর বেদনা!!!

আজ ২৬ই ডিসেম্বর, স্যারের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। আজ উনি নেই তবে ওনার কথা, কাজ, শিক্ষা সবি বেঁচে আছে আমার অনুভূতিতে, হাজারো ছাত্রছাত্রীর হৃদয়ে। আমি এখনও স্যারের আদর্শকে হৃদয়ে লালন করি!

প্রিয় শিক্ষক, সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সুজন’র আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

পোস্টের সাথে প্রাণের শিক্ষকের নিজ কণ্ঠে বলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান’র ৭ই মার্চ ভাষনের একটি অংশ যোগ করে স্মৃতিচারণ করলুম।
―রাহিনুল এইচ. ইমরান

উৎসর্গঃ
মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সুজন
প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঝাড়বিশলা হায়াত-উল উলুম আলিম মাদ্রাসা, পীরগঞ্জ।

Leave a Comment